Saturday, April 19, 2014

বাংলাদেশ


বাংলাদেশ
অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬)

* রবীন্দ্রনোত্তর যুগের অন্যতম প্রধান কবি অমিয় চক্রবর্তী এক সময় ছিলেন রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ।
* জন্মঃ ১৯০১ সালের ১০ এপ্রিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলির শ্রীরামপুরে ।
* তাঁর পিতাঃ দ্বিজেশ্চন্দ্র চক্রবর্তী ।
* অমিয় চক্রবর্তী ১৯২৬ সালে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন ও সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন ।
* তিনি অক্সফোর্ডে লেখাপড়া করে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কাজে নিয়োজিত হন ।
* তিনি ১৯৪০ সাল থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা করেন ।
* তিনি ১৯৬০ সালে ইউনেস্কো পুরস্কারে ভূষিত হন ।
* তিনি ১৯৭০ সালে ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত হন ।
* তিনি ১৯৮৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন ।
* তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- খসড়া (রবীন্দ্রপ্রভাব বর্জিত) ।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
* ‘গড়েছে আত্মীয় পল্লী’ কোথায় গড়েছে- যমুনা-পদ্মার তীরে ।
* ‘আম-জাম-নারকেল ঘেরা’- কোথায়- রূপোলি জলের ধারে ।
* কোন ধানের কথা আছে- আমন ধান ।
* এখানে মরু-পশু বলতে বুঝিয়েছেন- পাকিস্তানি সেনা বাহিনীকে ।
* ‘বাংলাদেশ অনন্ত অক্ষত মূর্তি জাগে, এর পূর্বের লাইন- এ জন্মেই ।
* নদীর নাম আছে- ২ টি ।
* ১ম স্তবকে লাইন- ১২ টি, ২য় স্তবকে লাইন- ১৪টি, ৩য় স্তবকে লাইন- ৭টি, ৪র্থ স্তবকে লাইন- ১টি ।
* ১ম স্তবকে বাংলাদেশের পরিচয়, ২য় স্তবকে হানাদার বাহিনীর হত্যাকান্ড, ৩য় স্তবকে হত্যাকান্ডের প্রতিক্রিয়া, ৪র্থ স্তবকে বাংলাদেশের বিজয় নিহিত ।
* বাংলাদেশ ব্যবহার হয়- ৪ বার, মোট লাইন- ৩৪টি।
* কারা অস্ত্র হাতে নামে- সান্ত্রী কাপুরুষ ।
* কোন রাষ্ট্রের রক্ত পতাকা তোলে- অধম ।

উৎস
* অমিয় চক্রবর্তীর ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি তাঁর ‘অনিঃশেষ’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে । দীর্ঘ কবিতাটির কেবল প্রথমাংশ এখানে সংকলিত ।
* বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত ।
* কবিতাটি ১৮ মাত্রার প্রবাহমান অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত ।
* প্রতি চরণে দুটি পর্ব- ৮+১০ ।

শব্দার্থ ও টীকা
হন্তারক--- হত্যাকারী ।
সান্ত্রী কাপুরুষ--- ভীরু পাকিস্তানি বাহিনী ।
স্বর্ণশ্যাম--- সোনালি-শ্যামল ।
পুন্যাহ--- কর্ম অনুষ্ঠানের শুভ বা পবিত্র দিন ।
ধারাবাহী--- অবিচ্ছিন্ন ।

সাহিত্যকর্মঃ

কাব্যগ্রন্থ
একমুঠো, মাটির দেয়াল, অভিজ্ঞান বসন্ত, পারাপার, পালাবদল, পুষ্পিত ইমেজ, অমরাবতী, ঘরে ফেরার দিন, অনিঃশেষ, হারানো অর্কিড, দূরবাণী, চলো যাই, পুরবাসী, লিরিক-কণিকা, খসড়া ।
*তাঁর পারাপার ও পালাবদল কাব্যের পটভূমি চার মহাদেশ-পরিব্যাপ্ত ।

Friday, April 18, 2014

সোনার তরী


সোনার তরী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)


* ‘সোনার তরী’ কবিতাটি কবির ‘সোনার তরী’ নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ।
* এই কবিতাটি তিনি ১২৯৮ বঙ্গাব্দে (১৮৯২ সালে) শিলাইদহে বসে রচনা রচনা করেন (পদ্মার পাড়ে, বোটে বসে) ।
* ‘সোনার তরী’ কবিতাটি ১৮৯৪ সালে সালে প্রকাশিত হয় ।
* ‘সোনার ধান’ বলতে বস্তু জাগতিক মহৎ সৃষ্টিকর্মকে বোঝানো হয়েছে ।
* স্তবক সংখ্যা- ৬টি, লাইন- ৪২টি ।
* পূর্ণ পর্ব- ৮ মাত্রা, অপূর্ণ পর্ব- ৫ মাত্রা ।
* কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে মনে হলেও ‘শূন্য’ শব্দের কারণে বুঝা যায় মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত ।
* বর্ষা শব্দটি আছে - ২ বার ।
* ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই’ - ১ বার ।
* ঠাঁই নাই - ২ বার ।
* ‘দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে’ - ২ বার ।
* ‘সোনার তরী’ আছে - ১ বার ।
* সাপেক্ষ সর্বনাম আছে - ১ বার ।
* নির্ধারক বিশেষণ আছে - ২ বার ।
* তরণী - ১ বার ।
* তরী - ৪ বার ।
* ধান - ৪ বার ।
* নদী - ৩ বার ।
* বর্ষা - ২ বার ।
* ক্ষেত – ২ বার ।

শব্দার্থ ও টীকা
খরপরশা- শাণিত বা ধারালো বর্শা ।
আমি- সাধারন অর্থে কৃষক । প্রতীকী অর্থে কবি নিজে ।
বাঁকা জল- কালোস্রোতের প্রতীক ।
তরুছায়ামসী-মাখাঃ- গাছপালার ছায়ায় কালচে রঙ মাখা ।
মাঝি- মহাকালের প্রতীক ।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
* ‘যত চাও, তত লও’- সাপেক্ষ সর্বনাম ।
* ‘রাশি রাশি, ভারা ভারা’- নির্ধারক বিশেষণ ।
* ‘সোনার তরী’ কবিতায় কী প্রকাশ পেয়েছে?- জীবন দর্শন ।
* ‘সোনার তরী’ কবিতায় মাঝিকে কৃষকের পরিচিত মনে হলেও তাঁর আচরণে কী ছিল- অপরিচয়ের নির্বিকারত্ব ও নিরাসক্তি ।
* কখন গ্রামখানি মেঘে ঢাকা ছিল?- প্রভাত বেলা ।
* ‘আমি একেলা’-কে একেলা?- কৃষক নামধারী কবি ।
* কবি পরপারে বা অপরপারে যে গ্রামখানি দেখেছিলেন সেটা দেখতে কেমন ছিল- তরু ছায়া মসী মাখা ।
* যখন বর্ষা এল তখন কৃষক কোন কাজে ব্যস্ত ছিলঃ- ধান কাটায় ।
* ‘বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে’- এখানে কাকে আহবান করা হয়েছে?- নৌকার মাঝিকে ।
* ‘একখানি ছোট ক্ষেত আমি একেলা/ চারিদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা’- এর মাধ্যেমে কবি কিসের চিত্রকল্প এঁকেছেন?- ছোট দ্বীপের ।
* ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নায় ছোট সে তরী’- এই কথাটি মাঝি কখন বলেছিল?- যখন কৃষক তার নৌকায় উঠতে চেয়ে ব্যর্থ হলো ।
* ‘কুলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা’- এর আগের লাইন কী?- গগণে গরজে মেঘ, ঘন ভরসা ।
* ‘একখানি ছোট ক্ষেত, আমি একেলা’- পরের লাইন কোনটি?- চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা ।
* ‘মসীমাখা’ শব্দটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?- দুর্যোগকে ।
* ‘ক্ষুরধারা’ ‘চারিদিকে বাঁকা জল’ শব্দগুলির মাধ্যেমে কী ব্যক্ত হয়েছে?- চিত্রকল্প সৃষ্টি হয়েছে ।
* কবিতার সময়কাল কখন?- প্রভাত ।
* কোন ঋতুর প্রেক্ষাপটে রচিত?- বর্ষা ।
* কোন কাব্যগ্রন্থটিকে রবীন্দ্রনাথের অনুবশ্ব বলা হয়?- ‘মানসী’ ।
* আলোচ্য কবিতায় আহবানকারী কি শেষ পর্যন্ত তরীতে উঠতে পেরেছিল?- পারে নি ।
* রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন অনুভূতি সোনার তরী কবিতায় ব্যক্ত হয়েছে?- নিঃসঙ্গ বেদনা নিয়ে মহাকালের শূন্যতায় বিলীন হওয়ার ইঙ্গিত ।